শহরকে কড়া লকডাউনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। করোনা ভাইরাস এর কারণে বাংলাদেশে মানুষের মাঝে এসেছে অনেক পরিবর্তন। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যে স্বাস্থ্যবিধি দেওয়া হয়েছে তা এদেশের জনগন সঠিক ভাবে পালন করছে না। করোনা ভাইরাসের তীব্রতা হুহু করে বাড়ছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ৪টি শহর করোনা ভাইরাসের হটস্পট হয়ে উঠেছে।

দেশ সর্বোচ্চ করোনাঝুঁকির দিকে এগোতে থাকায় এবং বড় শহরগুলোতে আক্রান্তের হার বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল নিতে যাচ্ছে সরকার। এই শহরগুলোতে নতুন নিয়মে ’লকডাউনের’ বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। নগরীর মেয়ররা চাচ্ছেন, এই চার সিটিতে যাতে অন্য জেলার মানুষ আসা-যাওয়া করতে না পারে তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি সিটি এলাকায় আলাদাভাবে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। ফলাফল দেখে ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় সিটিগুলোতে ওয়ার্ডভিত্তিক রেড ইয়েলো গ্রিন জোন করা হতে পারে।

সোমবার তিন মন্ত্রী, চার মেয়রসহ সরকারের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সচিবের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশেষ একটি বৈঠকে এ আলোচনা হয়। আগামী দুই দিনের মধ্যে এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদসচিব জরুরি ভিত্তিতে ওই বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী এতে অংশ নেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদসচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা, আইজিপি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর লকডাউন খুলে দেওয়ার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে সরকার স্বস্তিতে নেই। সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত এলাকা ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ নিয়ে কী করা যায় তা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে মেয়রদের বলা হয়েছে, বৈঠকের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করে সুপারিশমালা তৈরি করবে। কমিটির সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদন পেলে দু-তিন দিনের মধ্যে তাদের জানানো হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান খান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ’সোমবারের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকে বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করেছেন। তাঁরা উচ্চ ঝুঁকির শহরগুলোর বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের হিসাব অনুযায়ী জোনভিত্তিক চিত্র পর্যালোচনা করছেন। শিগগিরই তাঁদের দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কয়েক কোটি মানুষের বাস। এই শহরগুলোতে আন্ত জেলার পরিবহন বন্ধ না করে সংক্রমণ রোধে ওয়ার্ডভিত্তিক রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোন ভাগ করা হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বৈঠকে এ বিষয়ে রূপরেখা হিসেবে বলা হয়েছে, যারা করোনায় আক্রান্তের টেস্ট দিচ্ছে সেখানে ওই ব্যক্তির সব তথ্য থাকে। টেস্টে যারা পজিটিভ হবে তাদের তথ্য রোগী নিজে জানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার বা চেয়ারম্যানদের জানিয়ে দেওয়া হবে। তখন ওয়ার্ডভিত্তিক রোগীর সংখ্যা হিসাব করে জোন ঠিক করা হবে। যেসব এলাকায় রোগী দ্রুত বৃদ্ধির চিত্র দেখা যাবে সেসব এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত হবে। এভাবে দেশের অন্য কোথাও যদি রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়, সেখানেও একই পদ্ধতি জোনিং হবে।


প্রসঙ্গত, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভিতর সব থেকে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাস গত মার্চ মাসে প্রথম শনাক্ত হয়েছে। যত দিন যাচ্ছে করোনা ভাইরাস আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৫৫,১৪০ হাজার মানুষ। করোনা ভাইরাসে ভয়াল তান্ডবে প্রাণ হারিয়েছে ৭৪৬ জন মানুষ। করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা রকম নির্দেশণা গ্রহণ করেছে।