রাজধানী ঢাকা শহর বেশিরভাগ সময়ই অনেক ব্যস্ত থাকে। বিশেষ করে সন্ধার পর যেন রাজধানী ঢাকা শহরের সড়ক গুলো আরও ব্যস্ত হয়ে পরে। তবে অনেক সময় রাজধানী ঢাকা শহরে অতিরিক্ত গাড়ির কারণে যানজট লেগে যায়। আর এই সময় যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং এর কারণে যানজট এর মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। এবার তেমনই একটি গাড়ি পার্কিং এর সময় সেখানে মেয়র আতিকুল হাজির হন এ সময় তিনি সেই গাড়ি চালককে থানায় নেওয়ার কথা বলেন।

সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামছে সবে। এলইডি বাতির আলোয় আলোকিত রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক। হঠাৎই দেখা গেল, উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সড়কে কিছুটা বেশ যানজট। এখানে রাস্তা দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছেন এক প্রাইভেটকারচালক। এ কারণেই সৃষ্টি হয়েছে যানজট।

যানজটে থেমে আছে পেছনের গাড়িগুলো। এ অবস্থায় একটি গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় পার্কিং করা গাড়িটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ততক্ষণে আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড় লেগে গেছে।
দেখা গেল, গাড়ি থেকে নেমে যাওয়া ওই ব্যক্তি আর কেউ নন; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। এমন দৃশ্য দেখে আশপাশের জড়ো হওয়া মানুষের প্রশংসায় ভাসতে থাকেন তিনি।

চালককে উদ্দেশ্য করে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলতে থাকেন, ’রাস্তার মধ্যে গাড়ি রাখবেন আর এই শহরের মানুষ যানজটে কষ্ট পাবে, না কী? আমি কিছুই শুনতে চাই না, এই গাড়ি এখন থানায় যাবে। রাস্তায় গাড়ি রেখে জনগণকে কষ্ট দেবে? র‍্যাকার আসবে, গাড়ি থানায় যাবে। নো, নো সরি, থানায় যাবে গাড়ি।’

এমন জনসম্পৃক্ত কাজ দেখে সাধারণ পথচারীরা ধন্যবাদ জানান মেয়র আতিকুল ইসলামকে। পাশাপাশি তারা বলেন, ’জনগণের সমস্যা সমাধানে এমন মেয়রই আমাদের জন্য যোগ্য।’

এ বিষয়ে মেয়র আতিকুলের সহকারী একান্ত সচিব রিসাদ মোর্শেদ বলেন, ’নগরবাসীকে শত জঞ্জাল এবং দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মেয়র। দিনরাত বিরাম নেই তার। নাগরিক জীবনের যেকোনো দুর্ভোগ নজরে এলেই সরাসরি অ্যাকশন। এমনই একটি ঘটনা ঘটলো আজ (বুধবার)।’

তিনি বলেন, ’বনানীর নিজের কার্যালয় থেকে স্যার উত্তরার বাসায় ফিরছিলেন। পথেই ৪ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে। রাস্তা দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছেন এক প্রাইভেটকারচালক। তার এ দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে সড়কজুড়ে যানজট তৈরি হয়। আশপাশের লোকজন বারবার তাকে তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি যেন নাছোড়বান্দা! অতঃপর স্যার সরাসরি নিজের গাড়ি থেকে নেমে এলেন। চালককে বললেন, রাস্তা দখল করে গাড়ি পার্কিং করবেন আর জনগণ কষ্ট করবে, এটা হতে পারে না। এ গাড়ি থানায় যাবে। মুহূর্তেই ছুটে এলো পুলিশ। সঙ্গে র‌্যাকারও। পরে চালক ক্ষমা চেয়ে পড়িমড়ি করে ছুট দিল।’

রিসাদ মোর্শেদ আরও বলেন, ’সড়কে গাড়ি পার্কিং নিয়ে রাজধানীতে নৈরাজ্য চলছেই। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দৃঢ়প্রতীজ্ঞ ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। অবৈধভাবে দখল করা পার্কিংয়ের স্থানগুলো উদ্ধারে তিনি ইতোমধ্যেই জোর তৎপরতাও শুরু করেছেন।’

উল্লেখ্য, কিছু লোকের খামখেয়ালি পানায় যেখানে সেখানে গাড়ি পাকিং করে রাখছে আর এই কারণে সৃষ্ট হয় অনেক যানযট। তবে এই সকল বিষয়ে সব সময় নজর রাখেন এই মেয়র। তেমনি এই গাড়ি পাকিং দেখা মাত্র তিনি ও্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ সময় তার কাছে ক্ষমা চায় গাড়ি চালক। আর এই মেয়রের এমন কাজে সেখানে উপস্থিত সাধারণ জনগণ অনেক খুশি হন।