এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়াশুনা করতে আসেন। এই সকল বিদেশি শিক্ষর্থীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে প্রায় সময় অভিযোগ ওঠে বিদেশি শিক্ষার্থীরা কিছু কিছু সমস্যার মধ্যে পড়েন। তেমনি গতকাল রবিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করে বেশ কয়েকজন নেপালি শিক্ষার্থী বেশ সমস্যার মধ্যে পড়েন। তবে তাদের সাথে মূলত কি হয়েছিল এমন প্রশ্ন করছেন অনেকে। আর এবার জানা গেল কি কারণে মধ্যরাতে নেপালি শিক্ষার্থীকে বের করে দিল বাড়িওয়ালা।

বাড়ি ভাড়া বাকি থাকায় রংপুরে নর্দান বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৩২ নেপালি শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে মেস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় নর্দান কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব না নেয়ায় থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে বিদেশি ওই শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর মেডিকেলে অবস্থানরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি (এডুকেশন) একেএম এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানাতে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে সেখানে মানববন্ধন করেছে তারা। মানববন্ধনে অন্য শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছে।

এক নেপালি শিক্ষার্থীরা জানান, অনুমোদনহীন নর্দান মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ ঘোষণা ও মাইগ্রেশনের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী চলমান আন্দোলনের কারণে রংপুরে অবস্থিত নর্দান মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া নেপালি শিক্ষার্থীদের হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মালিকপক্ষ কৌশলে তাদেরকে রোববার রাত ১১টার দিকে হোস্টেল থেকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বের করে দেয়।

বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থী বলেন, এই পরিস্থিতিতে নেপালি মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি। বরং নেপালি শিক্ষার্থীদের সহায়তা করায় কর্তৃপক্ষের ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী দেশীয় শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে নর্দান মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ’নেপালি শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল হিসেবে নগরীর পাকার মাথা এলাকায় নুরুল ইসলামের চারতলা ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ফ্লাট ভাড়া নেওয়া হয়। গত ১১ মাসের ভাড়া বাকি থাকলেও কিছু টাকা পরিশোধ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি অসাধু মহল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা সাজিয়েছে। দেশের সম্মান রক্ষা ও করোনা দুর্যোগের মাঝেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের সব ধরনের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে।’ তাদের কোনো ভয়ভীতি দেখিয়ে আবাসিক থেকে বের করে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে আবাসিক ভবন মালিক নুরুল ইসলাম জানান, তিনটি ফ্লাটের মাসিক ভাড়া ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে গত আট মাসের ভাড়া বকেয়া আছে। এ নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যাংক ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে তিনি শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। রোববার রাতে শিক্ষার্থীরা বাইরে গেলে ভবনের মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেন তিনি।

এদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, তারা এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নেপালিদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিতে তারা সবসময় সচেষ্ট আছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। রাতেই নেপালি শিক্ষার্থীদের তাদের আবাসিক ভবনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, সোমবার দুপুরে অধিদপ্তরের ডিজি (এডুকেশন) একেএম এনায়েত হোসেন রংপুর মেডিকেলে অবস্থান করছেন জেনে নেপালি শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। ব্যর্থ হয়ে সেখানেই তারা মানববন্ধন করেছেন। এই মানববন্ধনে অন্য শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, নেপাল থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী পড়াশুনার জন্য বাংলাদেশে আসেন। তবে এই সকল বিদেশি শিক্ষার্থীরা কোনো বিপদে পড়লে তা দেশের জন্য ভালো নয় বলছেন অনেকে। এই ঘটনায় দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে রংপুরে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।