দেশে ফের করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমনকি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রা’ণ যাওয়ার সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে দেশে ফের কড়াকাড়ি আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যে সরকারের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি গাড়িতে চলাচলের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। যার কারণে এবার মোটরসাইকেল চালকরা আন্দোলনে নেমেছে।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুই সপ্তাহের জন্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে মোটরসাইকেলসহ অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের চালকরা।

মোটরসাইকেল নিয়ে চালকরা রাস্তায় অবস্থান নেয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল ১১টা থেকে তারা প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১২টা পর্যন্ত কয়েকশ মোটরসাইকেল প্রেস ক্লাবের সামনে জমায়েত হয়েছে।

মোটরসাইকেল চালকরা জানান, চাকরি না থাকায় সংসার চালাতে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করেন তারা। সরকারের নির্দেশনায় গণপরিবহন চললেও মোটরসাইকেল বন্ধ করে তাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে।

মোটরসাইকেল চালক দ্বীন ইসলাম জানান, রাস্তায় দাঁড়ালেই আমাদের বিনা অপরাধে শুধু শুধু মামলা দেয় পুলিশ। তার ওপর রাইডশেয়ারিং বন্ধের ঘোষণা। আমরা চলবো কীভাবে। চাকরি হারিয়ে আমরা রাইড শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভর করেই পেট চালাই।

অপর এক মোটরসাইকেল চালক জানান, সব যানবাহন চলছে। বিআরটিসির মতো গাড়িতে ডাবল ডাবল যাত্রী নেয়। সেখানে যদি করোনা না ছড়ায় আমরা একজন যাত্রী নিয়ে কীভাবে করোনা ছড়াই। এসব অত্যাচার আমরা মেনে নিতে চাই না। তাই আজ রাস্তায় নামলাম আমরা।

মোটরসাইকেল চালক হাফিজুর জানান, কিছু হইলেই দুই চার হাজার টাকার মামলা দেয়। আমাদের অন্য কোনও আয় নাই। এটা বন্ধ করলে আমরা কী খাবো। আমাদের মোটরসাইকেলের কিস্তি আছে। এগুলো বন্ধ করলে আমরা কীভাবে শোধ করবো।

বি’ক্ষো’ভে অংশ নেয়া ইমরান নামের একজন বলেন, ’আমাদের পে’’’টে লা’’’থি মা’’’রা হয়েছে। আমাদেরকে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ দিতে হবে। এই দাবি আদায় করেই আমরা রাস্তা ছাড়ব।’

কিভাবে সবাই একত্রিত হলেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’আমাদের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে।’

সোহেল নামের আরেকজন বলেন, ’বাসে, সিএনজিত যাত্রী পরিবহনে কোনো সমস্যা নেই। সবাই কাজে বের হচ্ছে। শুধু আমাদের ক্ষেত্রে সমস্যা। আমরা আমাদের রুটি-রুজির জন্য রাস্তায় নেমেছি। আমাদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। যতক্ষণ মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন দেয়া না হবে, তৎক্ষণ আমরা রাস্তা ছাড়ব না।’

এর আগে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বুধবার (৩১ মার্চ) বিআরটিএর উপ-পরিচালক (প্রকৌশল শাখা) বিমলেন্দু চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্য মোটরযানে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকারের উপরোক্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এছাড়া গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনাও দিয়েছে বিআরটিএ।


এদিকে, দিন দিন দেশে ফের করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমনকি রাজধানী ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিনিয়ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছে। আর এই করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি মোলাবেলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় সময় নানা রকম নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তবে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। যার কারণে মোটরসাইকেল চালকরা রাজপথে নেমেছেন।