সারা-দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। এমনকি এ লকডাউন কার্যকরের লক্ষ্যে সর্বদা মাঠে বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে যখন আইনের লোকই কঠোর এই বিধিনিষেধ অমান্য করে, তখন হতাশ হওয়া ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় থাকে না।
জানা যায়, ঈদের পর শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধের প্রথমদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার পরিবার নিয়ে নৌকাভ্রমণে বেরিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

এ নৌকাভ্রমণের আয়োজন করেন আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশ নেন ইউএনও রুমানা এবং ইউপি সদস্য কুতুব উদ্দিনসহ ৩০-৩৫ জন।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বিধিনিষেধের নির্দেশনার মধ্যে- মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ, পিকনিকসহ জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে গ্রেফতার কিংবা অর্থদণ্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, নৌকাভ্রমণকালে তা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান। ওই ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নৌকায় বসা চেয়ারম্যানসহ বেশির ভাগ নৌকাযাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। এতে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুকে এ নিয়ে সমালোচনা করে পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।

মো. ফয়সাল নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ’আবারো প্রমাণিত হলো- আইন সবার জন্য সমান নয়। সকাল বেলা কর্তব্য পালনরত অবস্থায় লকডাউন অমান্যকারীদের জরিমানা করে, উনার নিজেই বিকেল বেলা আনন্দভ্রমণে বের হওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত।’

মাহমুদুল হাসান ইমাম নামের একজন ফেসবুকে মন্তব্য করেন, ’এবার জরিমানা করবেন কাকে জনাব? শুধু ইউএনও নয়, আর শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে নয়, সারা দেশেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভ্রমণের আয়োজন করে ঘুরে। তারা এগুলো করলে আনন্দভ্রমণ আর সাধারণ মানুষ করলে করোনাভ্রমণ।’

জানতে চাইলে আখাউড়া উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া বলেন, ’নৌকাভ্রমণের আয়োজন করি নাই। উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকে বলেছিলেন- একটা প্রকল্প দেয়ার জন্য। ইরিগেশন প্রজেক্ট এবং বিনোদনকেন্দ্রের জন্য একটা ঘাটলা করার। বিষয়টি ইউএনওকে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলাম।’

নৌকায় এত লোকজন থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’আমি ও আমার পরিবারের লোকজনসহ এলাকার কিছু লোক এবং ইউএনও স্যারসহ তার পরিবারের কয়েকজন ছিলেন।’

জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ’জাইকার একটা প্রজেক্ট দেখতে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমার পরিবারের লোকজন ঈদ উপলক্ষে আমার এখানে এসেছেন, সেহেতু তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে গেছি।’

তিনি বলেন, ’আমার তো একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। আমি তাদেরকে সময় দিতে পারছি না বলে সঙ্গে নিয়ে গেছি। এটা নিয়ে নিউজ করার মতো কী আছে?’



দেশে ভয়াবহ এই করোনাভাইরাসের মধ্যদিয়ে ইউএনও রুমানা আক্তারের এমন কর্মকাণ্ড দেশবাসীর জন্য খুবই লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ছাড়াও অনেকেই। বিশেষ করে, এ সময়ে অপরকে সচেতন হতে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজেও সচেতন হওয়া জরুরী।