এ পৃথিবীতে প্রত্যেক পিতা-মাতার কাছে সব থেকে মূল্যবান বস্তুটি হল সন্তান। ছোট বেলায় শত আবদার পূরনের জন্য হাজারও কষ্ট-দুঃখ নিরবে সহ্য করে সন্তানের সামনে হাসির অভিনয় করতে হয়েছে তাদেরকে। নিজে না খেয়ে থাকলেও সন্তানকে কখনো বুঝতে দেয়নি খিদের কষ্ট। আর দিন শেষে সেই সন্তানের কাছেই যখন লাঞ্ছিত হয়, তখন হতাশ হওয়া ছাড়া আর অন্য কোনো উপায় থাকে না সেই পিতা-মাতার।
জানা যায়, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের মাটিহাঁস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে ক্ষেতলাল ও দুপচাচিয়া উপজেলায় গড়ে তোলেন একাধিক প্রতিষ্ঠান। গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির খামার এবং পুকুরসহ জমিজমাও ছিল যথেষ্ট। নিজের সব সম্পত্তি লিখে দেন একমাত্র ছেলে শাহিনুর আলমের নামে। আর সেই বাবাকেই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন শাহিনুর। শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মা/ম/লাও করেছেন।

জানা গেছে, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুস সালাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন শাহিনুর।

এতকিছুর পরও পুত্রস্নেহে অবিচল আব্দুস সালাম জানান, আমার ছেলে কিছু অসৎ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। তাদের কু-পরামর্শে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি এখন অসহায়।

আব্দুস সালামের এক স্বজন জানান, আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি। নিজের ছেলে বাবাকে মা//র//ধ/র করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।

আরেক এলাকাবাসী জানান, এ ঘটনায় আমরা ওই ছেলের বিচার চাই।
আব্দুস সালামের বোন জানান, আমার ভাই পথের ভিখারি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।

আব্দুস সালামের এক প্রতিবেশী জানান, দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে ছেলে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়েই এ ঘটনার মূল কারণ বলে জানান আব্দুস সালামের অন্য স্বজনরাও।
বাবা এবং প্রতিবেশিদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুস সালামের ছেলে শাহিনুর আলম।
শাহিনুর আলম বলেন, আমার বাবা আমার ওপর যে অভিযোগ করেছে, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি সেটি সত্য নয়। বরং দ্বিতীয় বিয়ে করে তার বউকে নিয়ে অন্য জায়গাতে সংসার করছে। আমার দোকান দখল করার জন্য এসেছিল। আমি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মিমাংসা করেছি বিয়ষটি।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু রাশেদ আলমগীর বলেন, প্রশাসনিকভাবে হোক আর যেভাবে হোক এর একটি সমাধান হওয়া উচিত।
সন্তানের এমন আচরণের কারণে বাবা পারিবারিক সুরক্ষা আইনে মামলা করতে পারবেন বলে জানান অ্যাডভোকেট নন্দ কিশোর আগরওয়ালা। তিনি বলেন, আদালতের আশ্রয় নিলে তিনি এর সুরাহা পাবেন।


উল্লেখ্য, প্র‍থম স্ত্রীর মৃত্যুর পর গত ৪ মাস আগে দ্বিতীয় বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম। আর নিয়ে প্রায় ঝামেলা লেগেই থাকতো তার পরিবারে। একপর্যায়ে ছেলে শাহিনুর আলমের স্ত্রী ফারজানা বাদি হয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির বি/রুদ্ধে নি//র্যা/ত/নের অভিযোগ জানিয়ে একটি মাম/লা দায়ের করেন।