মিডিয়া জগতে প্রায় সময় অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এছাড়া একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তবে অনেক সময় জেদ করেও বিয়ে করেন। কিন্তু মিডিয়া জগতের এই সকল নায়ক নায়িকাদের বিয়ে খুব কমই টেকে। এবার দীর্ঘদিন পর এক চিত্রনায়িকার সম্পর্কে জানা গেল তাকে জেদ করে বিয়ে করেছিল এক অভিনেতা। তবে তাদের বিয়ে আর বেশিদিন টেকেনি। চিত্রনায়িকার গর্ভে সন্তান আর পরই তাকে ডির্ভোস দেওয়া হয়।

চলচ্চিত্রের পর্দায় বিভিন্ন ঘটনা বা গল্প দেখে মুগ্ধ হন সিনেমাপ্রেমীরা। তবে পর্দার পেছনেও থাকে নানান ঘটনা। একটি সিনেমার শুরু থেকে মুক্তি পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। কখনও সেগুলো মধুর, আবার কখনও সেগুলো হয়ে ওঠে বি’’ষা’’দ’’ম’’য়।

এই প্রতিবেদককে তেমনি একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন নব্বইয়ের দশকের আলোচিত চিত্রনায়িকা রঞ্জিতা। তিনি জানান, তাকে জেদ করে বিয়ে করেন ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম। এরপর গ’র্ভে স’ন্তা’ন এলে তাকে ডির্ভোস দেওয়া হয়।

খুবই বেদনাবিধুর এবং একইসঙ্গে চাঞ্চল্যকর এমন তথ্যে যে কেউ চ’ম’কে উঠবেন। ভাববেন- জীবনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়। কিন্তু কী এমন ঘটেছিল দুজনের মধ্যে?

তখন বাংলা সিনেমায় মার্শাল আর্টের জোয়ার বইছে। ঘটনাক্রমে একটি সিনেমার ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমকে বাদ দেওয়া হয়। সেই সিনেমার নায়িকা ছিলেন রঞ্জিতা। গুঞ্জন শোনা যায়- এর পেছনে রঞ্জিতার হাত রয়েছে। আর এতেই বাধে বিপত্তি!

এ প্রসঙ্গে রঞ্জিতা বলেন, ’ওই সিনেমার শুটিং এফডিসির ৩নং ফ্লোরে হচ্ছিল। আমি মেকআপ রুমে ছিলাম। হঠাৎ সেখানে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম এলেন। তাকে দেখেই বুঝেছিলাম খুব রেগে আছেন! তিনি এসেই আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন- কোন নায়িকার জন্য আমাকে ফাইট ডিরেক্টর থেকে বাদ দেওয়া হলো? মেকআপ রুমে সেদিন নায়ক রুবেলও ছিলেন। রুবেল তখন বললেন, ওস্তাদ প্লিজ মেকআপটা শেষ করতে দেন। শুটিং রানিং। কিন্তু তাতেও তিনি নরম হচ্ছিলেন না। তখন আমি বলি- হু আর ইউ? আর এতেই তিনি চ’র’ম ক্ষি’’প্ত হলেন। আমাকে গা’’লি দিয়ে বলেন, এই মেয়ে আমার সঙ্গে ইংলিশ বলে! যাই হোক, সেদিন যাওয়ার আগে তিনি বলে যান- রুবেল, আমি এই মেয়েকে একদিনে বিয়ে করবো।’

এটাই ছিলো ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের জেদ। আর সেই জেদ তিনি পূরণ করেন রঞ্জিতাকে বিয়ে করে। রঞ্জিতার ভাষায় ’’এরপর আমি যখন প্রেগনেন্ট হলাম। তার চার মাস পর আমার বাবা-মাকে তিনি সাফ বলে দেন- ’আমার জেদ ছিলো বিয়ে করা; করেছি। এখন আপনাদের মেয়েকে নিয়ে যেতে পারেন।’ এরপরই আমার ডিভোর্স হয়।’’
’মরণ লড়াই’ সিনেমার মধ্য দিয়ে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে রঞ্জিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এই প্রেমের পেছনে যে উদ্দেশ্য কাজ করছে বুঝতে পারেননি রঞ্জিতা। তার দাবি, তিনি প্রতারিত হয়েছেন।

আশির দশকের শেষ দিকে ১৯৮৭ সালে চলচ্চিত্রে আসেন রঞ্জিতা। তার বাবা ছিলেন নায়করাজের বন্ধু। ’ঢাকা-৮৬’ সিনেমায় ’পাথরের পৃথিবীতে কাচের হৃদয়’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। রাজ্জাক পরিচালিত এ সিনেমায় অভিনয় করে রঞ্জিতা আলোচনায় আসেন। বাপ্পারাজের বিপরীতে অভিনয় করেন। এরপর ২৯টি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন।
রঞ্জিতার চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার রঙিন হলেও এখন তিনি ভালো নেই। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাইসহ থাকেন বনশ্রীতে ভাড়া বাসায়। ২০০৫ সালে সর্বশেষ তাকে পর্দায় দেখা গেছে।
সূত্র:পূর্বপশ্চিমবিডি

উল্লেখ্য, একটা সময় এই অভিনেত্রী অনেক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি অভিনয় থেকে অনেক দূরে রয়েছেন। এই অভিনেত্রী বর্তমানে তেমন ভালো নেই বলে জানান। আর এবার দীর্ঘদিন পর তার জীবনের কিছু কথা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।