পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রবিবার দুপুরে ঢাকার কিশোর আদালতের বিচারক মো. আল মামুন এ রায় দেন। গত ২২ এপ্রিল মামলার শুনানি শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করেন আদালত।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জানান, এ মামলায় ২৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। সুমি জামিনে ছিলেন। রায় দেয়ার সময় সে আদালতে হাজির ছিল।
খালাস পাওয়ার পর অনবরত কাঁদতে দেখা যায় সুমিকে। এসময় সুমি বলেন, ঐশী রহমান আমার জীবনের সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। ছুরি দেখিয়ে সে তার বাবা মায়ের রক্ত ও লাশ সরাতে বাধ্য করেছে। আমার কোনো দোষ ছিল না। আল্লাহ তার পাপের সাজা দিয়েছে। আর আমি গরিব মানুষ। কাজ করে খাই। কিন্তু ঐশীর কারণে আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। তার কথা যখন মনে পড়ে তখন ঘৃণা হয়।
তিনি বলেন, আমি পড়ালেখা করতে চাই। আমি শিক্ষিকা হতে চাই। সমাজের মানুষকে আলোর মুখ দেখাতে চাই।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এর পর দিন তাদের মেয়ে ঐশী রহমান রমনা থানায় নিজে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আদালতে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এর পর ঐশী রহমানের ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
পরে ২০১৭ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট ঐশীর দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবনের আদেশ দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ ডিবির পরিদর্শক মো. আবুল খায়ের মাতুব্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।