প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে \’কটূক্তি\’ করার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও মিরাক্কেল অভিনেতা ইয়াকুব রাসেলকে বেধড়ক মারধর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা (একাংশ)। মাথায় উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর আহত ইয়াকুব বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এরআগে রোববার বিকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার জিরো পয়েন্ট চত্বরে রাসেলকে বেধড়ক পেটানো হয়।
হামলার শিকার ইয়াকুব রাসেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। এছাড়া কলকাতার জি বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলের জনপ্রিয় কমেডি শো \’মিরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জ-৯\’ এর সেরা আটে উঠেছিলেন তিনি।
ইয়াকুবের ওপর হামলাকারীদের একজন চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনসুর আলম। তার দাবি, ইয়াকুব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে \’হাসি না\’ লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
নেত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারীদের সাথে আপস নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এর চেয়ে বেশি কিছু করার থাকলেও তারা করতেন। এছাড়া ইয়াকুবের ফেসবুকের কটূক্তির স্ক্রিনশটগুলো নিয়ে রেখেছেন বলেও জানান সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারধরকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের \’সিক্সটি নাইন\’ গ্রুপের সদস্য ও সাবেক সহ-সভাপতি মনসুর আলমের অনুসারী।
ইয়াকুব রাসেলের ছোটভাই সোহেল জানান, বিকাল ৩টার পর ইয়াকুবকে কুপিয়ে ও বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর ভাইয়ের বন্ধুরা উদ্ধার করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চমেকে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তার মাথায় ৮টি সেলাই দিয়েছেন বলে সোহেল জানান।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী শুভ জানান, ইয়াকুবের মাথায় বেল্টের বকলেসের আঘাতে বড় আকারে ফেঁটে গেছে। এছাড়া কোপের আঘাতও রয়েছে। তাই তার নিরাপত্তা ও উন্নত চিকিৎসার কথা ভেবে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র বলেন, \’ঘটনা আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। কেউ অন্যায় করলে দেশের প্রচলিত আইনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আইন আছে। নিজ ক্ষমতা বলে আইন হাতে তুলে নেয়ার এখতিয়ার কারো নেই। লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।\’
poriborton
 
.