বর্তমান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বেশ আলোচনা জন্ম দিয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। 
কে এই মাহমুদুর রহমান মান্না?
ছাত্রলীগ থেকে জাসদ, বাসদ, জনতা মুক্তি পার্টি হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে ফেরা মাহমুদুর রহমান মান্না ২০০৭ সালে দলটিতে অপাংক্তেয় হয়ে পড়েন।
রাজনীতিতে সেনা হস্তক্ষেপের পর দুই নেত্রীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা, যা মাইনাস টু ফর্মুলা হিসেবে পরিচিত, তাতে মান্নার সক্রিয় ভূমিকার কথা বেশ আলোচিত। এজন্য তাকে ওয়ান-ইলেভেনের ’কুশীলব’ বলেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
মাঝখানে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে একটি অডিও ক্লিপের জেরে জেলও খেটেছেন। 
বগুড়ায় জন্ম নেওয়া মান্না ১৯৬৪ সালে ঢাকায় আসেন। ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাস করেন আরমানিটোলা স্কুল থেকে। ঢাকা কলেজে থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন ১৯৬৮ সালে। ছাত্রজীবনেই ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন মান্না। স্বাধীনতার পর জাসদ গঠিত হলে রোমাঞ্চের নেশায় অনেক তরুণের সঙ্গে তিনিও ভেড়েন এই দলটিতে, ১৯৭৩ সালে ২২ বছর বয়সে চলে আসেন জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদেও।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে চাকসুর জিএস নির্বাচিত হন মান্না। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ১৯৭৯ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। এরপরই জাসদ ভেঙে খালেকুজ্জামান ও আ ফ ম মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে বাসদ গঠিত হলে মান্না থাকেন তাদের সঙ্গে। বাসদ ছাত্রলীগ থেকে ১৯৮০ সালে নির্বাচন করে দ্বিতীয় দফায় ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। দুবারই তার সঙ্গে জিএস ছিলেন বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা আকতারুজ্জামান।
১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ছিলেন তিনি। এরপর এক সময়ের জাসদ নেতা মীর্জা সুলতান রাজার নেতৃত্বে জনতা মুক্তি পার্টি গঠিত হলে ওই দলের নেতা হন মান্না। এই দলটি ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগে বিলুপ্ত হলে মান্না হয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতা।
নিজের এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে একাধিকবার নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হলেও জিততে পারেননি মান্না। 
২০০১ সালে সর্বশেষ আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রার্থী হয়ে ৪৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তিনি। সেবার বিএনপির প্রার্থী রেজাউল বারী ডিনা ১ লাখ ১৬ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হন। ভোটে হারলেও কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে আসেন মান্না। ২০০৭ সালে জরুরী অবস্থা জারির সময়ও দলের ওই পদেই ছিলেন তিনি।
তবে ওই সময়ে বাংলাদেশ সেনা নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় দলে সংস্কারের দাবী তুলে ফের আলোচনায় আসেন মান্না। 
২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে বাদ পড়ে কার্যত আওয়ামী লীগে অপাংক্তেয় হয়ে পড়েন মান্না।
দলবিযুক্ত মান্না তখন থেকে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন টক শো-তে সক্রিয় হয়ে নিজেকে রাজনীতিতে অস্থিত্বশীল রাখেন। এই সময়ে নাগরিক সমাজের হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায় তাকে, ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও। এর মধ্যে ২০১২ সালে নাগরিক ঐক্য নামে একটি সংগঠনের ঘোষণা দেন ৬২ বছর বয়সী মান্না। 
সম্প্রতি এক সময়ের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান মান্নাকে অস্থির চিত্তের মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সংসদ সদস্য শিরিন আখতার। তিনি বলেন, এই মান্নাকে তো আমরা অনেক আগে থেকেই চিনি। অস্থির চিত্তের এই মান্না ছয় বার দল বদল করেছেন। একসময় কোনো কূল না পেয়ে সেনাবাহিনীর কাছে ধর্না দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
শিরিন আখতার বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না গত কয় বছর ধরে টিভি টকশো করে বড় বড় কথা বলেছেন। এখন তার থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে। তিনি (মান্না) আপোস করবেন না বলে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন। নিজের আদর্শেই দল গড়ার কথা বলেছেন। তার চরিত্র আমাদের জানা আছে। সূত্র : গো নিউজ