মগবাজার উড়ালসড়কের ওপর ময়লার স্তূপ। দায়িত্ব পালন করে না নগর কর্তৃপক্ষ। সড়কটি ধরে চলতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা দেখেন। প্রতিদিন ভাবেন, সিটি করপোরেশন হয়তো কালই এসব পরিষ্কার করবে। কিন্তু তারা এগিয়ে আর আসে না। এই অবস্থায় নিজেই উদ্যোগী হলেন।
তিনি ঢাকার কর অঞ্চল-১৩ এর কর কমিশনার। নাম বজলুল কবির ভূঁইয়া। তার একটি সংগঠন আছে ’রিপেয়ার বাংলাদেশ’ নামে। আর নগর কর্তৃপক্ষকে ’চোখে আঙ্গুল দিয়ে’ তার করণীয় দেখালেন তিনি।
উড়াল সড়কের তিন কিলোমিটারের দুই পাশের জমে থাকা আবর্জনা সরিয়েছে রিপেয়ার বাংলাদেশ। এতে গাঁটের পয়সা খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। বজলুল কবিরসহ ১৪ জন অংশ নেন এই কাজে।
বজলুল কবির ভূঁইয়া বলেন, ’এটা আমাদের একটা ম্যাসেজ (বার্তা)। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা যে যার দায়িত্বে আছেন, তারা তার দায়িত্ব পালন করেন না। আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে একটা ম্যাসেজ দিতে চাই, যেন তারা তাদের কাজ সম্পর্কে আরও সচেতন হয়।’
গত ১ জানুয়ারি এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে রিপেয়ার বাংলাদেশ। বজলুল জানান, তার সংগঠনে দুই হাজারের বেশি সদস্য সমাজের নানা সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধতা থেকেই এই কাজ করেন তারা। উড়াল সড়কের আবর্জনা পরিষ্কার তারই একটি অংশ।
২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি কুড়িল ফ্লাইওভার পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু ’রিপেয়ার বাংলাদেশের’। এরপর থেকে ঢাকার বিভিন্ন উড়ালসড়ক পরিষ্কার করেন তারা।
তবে এই ধরনের কাজ আর করতে চান না বজলুল। তিনি আশা করছেন, নগর কর্তৃপক্ষই এগিয়ে আসবে। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ’আশা করি, মাননীয় মেয়র মহোদয়গণ আমাদের এ কাজ করা থেকে অচিরেই অব্যাহতি দেবেন।’
মগবাজার উড়ালসড়কটি নির্মাণ করেছে এলজিইডি। গত অক্টোবরে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয় নগর কর্তৃপক্ষকে। এর একাংশ পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে, একাংশ দক্ষিণে। কিন্তু দুই নগর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঠেলাঠেলি রয়েছে।
এই সুযোগে উড়াল সড়কে বিদ্যুৎ সরবরাহের সব তার চুরি করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সড়কের রেলিং ভেঙে বের করা হয়েছে এই তার। আর এ কারণে রাতে অন্ধকারে ঢেকে থাকে সড়কটি। পাশাপাশি দুই পাশে ধূলা আর নানা আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাষণের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
বজলুল বলেন, ’কয়েক শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভারটি কখনো কেউ পরিষ্কার করেননি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র মহোদয়কে আমি বিষয়টি তিন মাস আগে জানিয়েছিলাম। তিনি জানালেন, এ ফ্লাইওভারটি এখনো এলজিআরডি বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি করপোরেশন এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এখনো পায়নি।’ এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন একটি ট্রাক দিলেও কোনো লোকবল দেয়নি।dhakatimes24