সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয় ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠীকে। তবে দেবী শেঠীর বাংলাদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা মোটেই সহজ ছিলো না।
এক রাষ্ট্র থেকে আরেক রাষ্ট্রে যাবেন দেবী শেঠী, ভিসা তো লাগবেই। বাংলাদেশে যেতে হবে সেটা দেবী শেঠী জেনেছেন সোমবার ভোরে। দেবী শেঠী থাকেন ভারতের বেঙ্গালুরুতে। ভোর থেকেই তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রকিয়া সম্পন্ন করতে তুমুল ব্যস্ততার মধ্যে পড়েন কলকাতার উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
প্রথমবার নিয়মের ঊর্ধ্বে উঠে কনস্যুলার মনসুর আহমেদ বিমানবন্দরে গিয়ে বাংলাদেশের ভিসা প্রসেসের সব কাজ সম্পন্ন করেন। এমন ঘটনা কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্যই ইতিহাসে প্রথম।
এ বিষয়ে কনস্যুলার মনসুর আহমেদ বলেন, কাকডাকা ভোরে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ফোন আসে উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসানের কাছে। এরপরই শুরু হয় ব্যস্ততা। উপ-হাইকমিশনের প্রধান তখনই জানান তৃতীয় সচিব কন্স্যুলার শেখ শাফিন হককে। শুরু হয় প্রক্রিয়া। শেখ শাফিন সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করেন আমার সঙ্গে। ঘুম ঘুম চোখেই আমি বেঙ্গালুরুতে যোগাযোগ করি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠীর সঙ্গে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিট অবধি টেলিফোনে বাংলাদেশ সরকার ও দেবী শেঠীর কলকাতার ডাইরেক্টটরের সঙ্গে আলাপ চলে। কথা হয় দেবী শেঠীর সঙ্গেও।
কনস্যুলার মনসুর আহমেদ আরো বলেন, দেবী শেঠীর ভিসা সংক্রান্ত ফরম পূরণ অনলাইনে আমরাই করি। কিন্তু পাসপোর্ট ওনার সঙ্গে। তাই প্রটোকল ভেঙে ছুটে যাই কলকাতা বিমানবন্দরে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের বেঙ্গালুরু থেকে আসার অপেক্ষা করতে থাকি। দেবী শেঠী স্থানীয় সময় ৮টা ৩০ মিনিটে বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। আমরা অপেক্ষায় থাকি তার অবতরণের জন্য। ১০টা ৩০ মিনিটের কিছু পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন দেবী শেঠী। ততক্ষণে উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সমস্ত কাজ এগিয়ে রাখি। মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পাসপোর্টে দেওয়া হয় ভিসার সিল। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ফ্লাইটে ১২টার দিকে দেবী শেঠীকে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের জন্য দুশ্চিন্তা অন্যদিকে চিন্তা ছিলো তাড়াতাড়ি ভিসা প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করার। অবশেষে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী ঢাকায় পৌঁছান ১২টা ৪৭ মিনিটে। দ্রুততম সময়ে ঢাকায় তার পৌঁছানোর কৃতিত্ব আমার একার নয়। পুরো উপ-হাইকমিশনের কর্মীদের। বিশেষ করে জাহিদ হোসেন, আলম ও তৃতীয় সচিব কনস্যুলার শেখ শাফিন হকের।