বর্তমান সময়ে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে দেশে প্রায় সময় বেশ আলোচনা শুরু হয়। এই সম্মানিত ব্যক্তি দেশে একজন আলোচিত ইসলামিক বক্তা। তিনি প্রায় সময় দেশের মধ্যে নানা অনিয়ম নিয়ে মুখ খুলে থাকেন। আর এবার এই সম্মানিত ইসলামিক বক্তা দেশের একটি আলোচিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি এবার দাড়ি রাখা নিয়ে কথা বলেছেন। এসময় তিনি বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন।

মিজানুর রহমান আজহারী একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, আন্তর্জাতিক ইসলামি বক্তা ও সমাজ সংস্কারক। ঢাকা জেলার ডেমরায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেন।

আজ সোমবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক থেকে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর পোস্ট হুবুহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ-

দাড়ি পুরুষের শোভা, পৌরুষত্ব ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণতার প্রতীক। মুসলিম জাতি সত্তার অন্যতম পরিচায়ক ও নিদর্শন। তাই, এ পৃথিবীর সকল নবী-রাসুল দাড়ি রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ‬) দাড়ি রাখতে মুসলিম পুরুষদের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা মানুষের সৃষ্টিগত এই শোভা ও সৌন্দর্যকে পরিবর্তন কিংবা বি’কৃ’ত সাধন করতেও নিষেধ করেছেন।

কোন প্রতিষ্ঠান তার ইমপ্লোয়ি নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে, কাকে নিয়োগ দিবে আর কাকে দিবে না— সে ব্যাপারে পূর্ণ অধিকার তারা রাখে। কিন্তু ইসলামি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আ’’ঘা’’ত দেয়ার এখতেয়ার রাখেনা।

ইসলামি লাইফস্টাইলে অভ্যস্ত বিয়ার্ডেড যুবকদের আপনার প্রতিষ্ঠানে রিক্রুট করবেন না, আর ইসলামের ধর্মীয় উৎসবে ঈদ উপলক্ষে পাঞ্জাবি, পায়জামা এবং কটি বিক্রি করে শত শত কোটি টাকার বিজনেস করবেন! ব্যাপারটা কেমন দ্বি-মূখী হয়ে গেলো না?

আলহামদুলিল্লাহ। ইসলামি জীবনাচার ও মূল্যবোধ রক্ষার অনুভূতি আজো এদেশে টিকে আছে। ব্যবসা করতে চান, ব্যবসা করুন। দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে আড়ং এর সুনাম দীর্ঘ দিনের। এটা ধরে রাখার চেষ্টা করুন। পলিসি রিভাইজ করুন। দেশীয় আস্থাশীল কোন ব্র্যান্ডের এরকম পলিসি সাধারণ মানুষজনও ভালোভাবে নিচ্ছে না। তাই, কারো আত্মপরিচয় ও মূল্যবোধের জায়গায় হাত না দিয়ে, আরো উদারনীতি অবলম্বনের বিনীত আহবান রাখতে চাই।

এদিকে তাঁর ফেসবুকে পোস্টকৃত ছবিতে লেখা আছে, দাড়ি একমাত্র দৃশ্যমান সুন্নাহ যা আপনি সাথে করে কবরে নিয়ে যাবেন।

এদিকে, আড়ং এর ওই কান্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা দেখা দেয়। এমনকি দেশের অনেক ব্যক্তি আড়ং এর বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন। এছাড়া অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আড়ং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তবে এরপর আড়ং তাদের ভুল হয়েছে বলে ক্ষমা চান।