গত বছর রাজধানী ঢাকা শহরে এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এক নৌবাহিনীর কর্মকর্তার সাথে খারাপ আ’চারণ করেন। এরপর তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এই অভিযান পরিচালনা করার সময় তার বাসা থেকে বিভিন্ন অ’বৈধ জিনিস উদ্ধার করা হয়। এই অবৈধ জিনিসের কারণে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে এবার ইরফান সেলিমকে একটি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অ///স্ত্র মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড (বরখাস্ত) কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ অ//স্ত্র মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দেন।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমামের আদালতে অ///স্ত্র ও মা//দ//ক মামলায় ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। তবে তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লাকে অভিযুক্ত করে পুলিশ এই দুই মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে।

এ প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

ওই প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ’ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে করা অ///স্ত্র মামলার ঘটনাস্থল ২৬ নং চাঁন সর্দার দাদাবাড়ী। এই বাসার মালিক বর্তমান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। মামলার আসামি ইরফান সেলিম তার পুত্র। ইরফান সেলিম বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর। মামলার বাদী এজাহার ও জব্দ তালিকায় মামলার ঘটনাস্থল ইরফান সেলিমের ব্যক্তিগত শয়ন কক্ষে উল্লেখ করেন। তবে মামলাটি সরেজমিনে ত’দ’ন্ত’কা’লে সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা যায় যে, মামলার ঘটনাস্থলটি ইরফান সেলিমের ব্যক্তিগত শয়ন কক্ষ নয়। সেটি ছিল একটি অতিথি কক্ষ।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ’ইরফান সেলিমের পরিবার একটি রাজনৈতিক পরিবার হওয়ায় ওই অতিথি কক্ষে বিভিন্ন আগন্তুক অতিথি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন। ইরফান সেলিম দীর্ঘ সময় বিদেশে থেকে পড়ালেখা করেছেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কানাডায় বিবিএ পড়া শেষ করেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য এবং সমাজে তার সম্মান ক্ষু’’ন্ন করাসহ সমাজে হেয় প্র’’তি’’প’’ন্ন করার জন্য অ’’সৎ উদ্দেশ্যে কে বা কারা মামলার জ’’ব্দ’’কৃ’’ত পি//স্ত//ল//টি অভিযুক্ত ইরফান সেলিমের অতিথি কক্ষে রেখেছেন। ইরফান সেলিমের এলাকায় তার বিরুদ্ধে অ’বৈধ অ////স্ত্র বহন বা প্রদর্শন তথা স///ন্ত্রা///সী কা/র্য/ক/লা/পে অংশগ্রহণের কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, ’মামলার জব্দকৃত আলামত পি//স্ত//লে//র বিষয়ে মামলার বাদী এজাহারে এবং জব্দ তালিকায় কার অ///স্ত্র এবং কার দেখানো মতে জব্দ হয়েছে তা উল্লেখ করেননি। অ///স্ত্র মামলার গো//প//নে ও প্রকাশ্য ত/দ/ন্তে গৃহীত সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযুক্ত ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অত্র মামলার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় নাই। বিধায় ইরফান সেলিমকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলো।’

গত ২৫ অক্টোবর নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের গা/ড়িটি তাকে ধা//ক্কা মা//রে। এরপর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে ইরফানের সঙ্গে থাকা অন্যরা এ//ক//স//ঙ্গে তা/কে কি//ল-ঘু//ষি মা//রে//ন এবং মে//রে ফে//লা//র হু’ম’কি দেন। তার স্ত্রী’’কে অ’’’শ্লী’’’ল ভা’ষায় গা/ল/গাল/ও করেন তারা।

এরপর ২৬ অক্টোবর সকালে ইরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মো. জাহিদুল মোল্লা, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ আহমদ খান। ওই দিনই পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা হাজী সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মা//দ//ক রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছর কা/রা/দ/ণ্ড দেন। ইরফানের দে/হরক্ষী মো. জাহিদকে ও/য়াকিটকি ব/হন করার দায়ে দেন ছয় মাসের সাজা।

এরপর ২৮ অক্টোবর র‍্যাব-৩ এর ডিএডি কাইয়ুম ইসলাম বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ইরফান সেলিম ও দে/হ/র/ক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অ////স্ত্র ও মা//দ//কে//র পৃথক চারটি মামলা করেন।


এদিকে, এই এমপি পুত্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠে আসে। আর বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে তার বাসায় যে সকল অবৈধ জিনিস পাওয়া যায় তা তিনি রাখেননি বলে জানানো হয়। আরও বলা হয় তাকে ফাঁ’সানোর জন্য কেউ হয়তো তার বাসায় অবৈধ জিনিস রাখেন। এবার সেই অবৈধ জিনিসের মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।