গত বছর সংসদ সদস্য হাজী সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিম কে নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়। মূলত হাজি সেলিমার ছেলে ইরফান সেলিম এক নৌবাহিনীর কর্মকর্তার সাথে খারাপ ব্যবহার করার পর থেকে এই আলোচনা শুরু। আর এরপর হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে আগের মামলার কাজ দূরত শেষ করা হয়। হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে যে মামলা ছিল তার রায় গতকাল দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় হাজি সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড হাইকোর্টে বহাল রাখেছে। একই সাথে হাজী সেলিম এমপি থাকছেন কিনা সিদ্ধান্ত জানিয়েছে স্পিকার।

দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড হাইকোর্টে বহাল থাকায় এমপি পদ হারাচ্ছেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি জানিয়েছেন, সাজা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সেটি দুদকের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এরপর স্পিকার হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ হাজী সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল রেখে রায় ঘোষণার পরে দুদকের আইনজীবী এ মন্তব্য করেন।

দুদকের মামলায় হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেয়া ১৩ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ১০ বছর বহাল রাখার পাশাপাশি আদালত ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

তথ্য গো’’প’’নে’’র অভিযোগে বিচারিক আদালতে তার যে তিন বছরের সাজা হয়েছিল, তা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে হাজী সেলিমের করা আপিলের ওপর ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজ ৯ মার্চ দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত রায় পড়ে শোনান বিচারক।

উল্লেখ্য, হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠে আসে। এমনকি তিনি সরকারি জায়গা দখল করেছেন বলে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। তার বিরুদ্ধে যে সকল মামলা ছিল এর কাজ দ্রুত শেষ করা হয়েছে। গতকাল তার সেই মামলার রায় প্রকাশ করা হয় এবং তাকে কারাদন্ড দেওয়া সহ ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।