বর্তমানে বাংলাদেশ করোনা তান্ডবে তালমাটাল অবস্থা। করোনা এক প্রকার মহামারী ছোঁয়াছুয়ি ভাইরাস। এই সংক্রমকের প্রধান উপসর্গ হচ্ছে হাঁচি, কাশি, সর্দি জ্বর শ্বাসকষ্ট। এই রোগ ধনী গরিব, ছোট, বড় সকলের হচ্ছে। করোনা কালে দেশের গরিব মানুষ না খেয়ে অনাহারে দিন পার করছে। কর্মস্থান বন্ধ হয়ে যাবার কারণে দেশের মানুষ মহা বিপাকে রয়েছে। এমন সময় করোনা মহামারী মোকাবেলা করতে দেশে করোনা শনাক্তের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দুর্দিনে করোনার টেষ্ট ফি ধরা সরকারের গণবিরোধী পদক্ষেপ বলে মনে করেন ড. মীজানুর।

সরকার কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য ’ফি’ আদায় শুরু করবে বলে আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নাকি সেদিকেই হাঁটছে। এ কাজটি হবে দুর্দিনে সবচেয়ে গণবিরোধী একটি পদক্ষেপ। এতে সরকারের কোনো সাশ্রয় হবে না, চোরদের পকেটে টাকা চলে যাবে। সরকারের খাতে সমালোচনাটাই জমা হবে। আরটিপিসিআর টেস্ট হচ্ছে করোনারোগী শনাক্তকরণে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বা একমাত্র স্বীকৃত পদ্ধতি যা ’হু’ কর্তৃক অনুমোদিত। তবে এ প্রক্রিয়াটি জটিল, ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। দ্রুত মেশিন সংগ্রহ বর্তমান সময়ে কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। তবে নমুনা সংগ্রহ থেকে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ণয় করে রোগীকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল, যা জরুরি ভিত্তিতে তৈরি সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রায় ৭০টি ল্যাবে এ কার্যক্রম চলছে। দৈনিক প্রায় বিশ হাজার টেস্ট করা হচ্ছে। ল্যাবের সংখ্যা আরো বাড়বে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কতো বাড়াতে পারবো। দৈনিক ১ লাখ করে টেস্ট করলে ১৭ কোটি মানুষের ২০ শতাংশকে টেস্ট করতে এক বছরের বেশি সময় লাগবে। দেশের সকলের টেস্ট করতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৫ বছর। এতোদিনে হয় আমরা মরে যাব বা করোনা মরে যাবে। করোনা টেস্ট করার চেয়ে উপসর্গ দেখে আইসোলেশন বা উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসার দিকে বেশি জোর দিতে হবে। টেস্টে একবার কারো পজেটিভ আসলে তাকে আর দ্বিতীয়বার টেস্ট করার দরকার নেই। ১৪-২১ দিনের মধ্যে যদি উপসর্গ চলে যায় ধরে নিতে হবে সে সুস্থ হয়ে গেছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার এন্টিবডি টেস্ট করানো যেতে পারে। এটা শুধু রোগীর সান্তনা এবং গবেষণার জন্য কাজে লাগবে।

অন্তত পজেটিভ রোগীদের দ্বিতীয়-তৃতীয় বার টেস্ট বন্ধ করলেই ’কিট’ সংকটের বড় একটা সুরাহা হবে। উপসর্গবিহীন কারও টেস্ট করার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তি যদি নিজেই করোনা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করে তাকে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হোক। উপসর্গ স্পষ্ট হলে অর্থাৎ শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা সৃষ্টি হলেই কেবল হাসপাতালে ভর্তি করা হোক যাতে প্রয়োজনে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া যেতে পারে। পিসিআর টেস্টের খরচ অর্ধেকে নামানো যায় যদি একটি কিট দিয়ে দুই’জনের পরীক্ষা করানো হয়। প্রক্রিয়াটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সফলভাবে প্রয়োগ করেছে এবং স্বীকৃতিও পেয়েছে। অযথা উপসর্গবিহীন রোগীদের টেস্ট অথবা প্রথম টেস্টে পজেটিভ আসা রোগীদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার পিসিআর টেস্ট না করে, উপসর্গ চলে যাওয়ার পর সুস্থ ঘোষণা করুন বা এন্টিবডি টেস্ট করুন। ফি ধার্য করে ভিড় কমানো যাবে না। অনেকে এখন বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই টেস্ট করে নিশ্চিত হতে চাচ্ছে। অনেকটাই এ রকম, ’আমার বান্ধবীর বাসার সবাই ২ বার করে টেস্ট করে ফেলেছে, আমরা ১ বারও করলাম না!’

আর একটা বিষয় আমার অবাক লাগে, রেড জোনের অতি সংক্রমিত এলাকা চিহ্নিত করতে এত সময় কেন লাগছে! এই কাজের জন্যও কেউ ব্যবসায়ের ফাঁদ পাতছে না’তা? গত ১৪ দিনে যাদের করোনা পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে। তাদের নিজের অথবা পরিবারের কারো টেলিফোন নম্বরে এসএমএস করে তাদের ফলাফল জানানো হয়েছে। পজেটিভ টেলিফোন নম্বরধারীরা এই মুহূর্তে কোথায় আছে এটা পুলিশ কর্মকর্তা আমার ছাত্র মোল্লা নজরুলকে দিলেই এক ঘণ্টার মধ্যে জানিয়ে দিতে পারবে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে। ট্র্যাকিংয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী যেই পাড়ায়, মহল্লায় বা রোডে পাওয়া যাবে সে জায়গাটুকু লকডাউন করে দিতে হবে। তার আগে স্থানীয় প্রশাসন লকডাউনকৃত এলাকার যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এলাকাবাসি বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় তা কার্যকর করবে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লাগাতার মিটিংয়ের কোনো প্রয়োজন নেই।


প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্টি হয়েছে অবরুদ্ধ পরিবেশ। অদৃশ্য এ করোনা ভাইরাস বর্তমানে বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলেগেছে। নতুন করোনা। করোনা সংক্রমণ রুখতে সরকার নানা প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এলাকা ভিত্তিক লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এবার করোনা কিটের সংকট দেখা দিয়েছে দেশে। দূর্দিন পার করছে সারা দেশের মানুষ। এমন সময়ে সরকার এই করোনা শনাক্তের পদক্ষেপে টাকা নির্ধারণ করা যেন গরিবদের বিনা চিকিৎসায় প্রাণ যাওয়ার সমান।