সম্প্রতি সময়ে দেশে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে যা বেশ আলোচিত ও সামলোচিত হয়েছে। তবে একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আরও একটি ঘটনা ঘটছে যা আগের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় সময় অভিযোগ উঠে আসে রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন। আর এই কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ নানা রকম সমস্যার সম্মক্ষিণ হয় তবে এই সকল সমস্যার কথা কোথাও বলার সাহস পায়না ভুক্তভোগীরা। কিন্তু যখনই কোনো আলোচিত ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে তখনি ওই রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে। আর তেমনি সম্প্রতি দেশে এক রাজনৈতিক পরিবারের সম্পর্কে নানা রকম অভিযোগ উঠে এসেছে। আর এই রাজনৈতিক পরিবারের সম্পর্কে দেশের অনেক বিশিষ্ঠ ব্যক্তিরা কথা বলছেন। তেমনি এবার এই রাজনৈতিক পরিবার সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব প্রভাষ আমিন।


নৌবাহিনীর কর্মকর্তার ঘটনার আগ পর্যন্ত আমি ইরফান সেলিমের নাম শুনিনি, দেখার তো প্রশ্নই ওঠে না। তার চেহারাটি আমি প্রথম দেখি পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতকড়া পরা অবস্থায়। চেহারায় একটা আভিজাত্য আছে, তার পিতা হাজী সেলিমের মত নয় মোটেই। পরে জানলাম, তিনি পড়াশোনা করেছেন দেশের বাইরে, সম্ভবত কানাডায়। সব মিলিয়ে আমি একটু বিস্মিত।

কানাডায় পড়াশোনা করে আসা একটি যুবকের আরো অনেক বেশি মানবিক হওয়ার কথা। মানুষের মর্যাদা, অধিকারের বিষয়গুলোও তিনি আমাদের চেয়ে ভালো বোঝার কথা। সেই তিনি কিনা রাস্তায় গাড়ি দিয়ে মোটর সাইকেলে ধা/ক্কা দিয়েছেন। কানাডায় হলে নিশ্চয়ই তাৎক্ষণিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করতেন। কিন্তু দেশটা যেহেতু বাংলাদেশ, তাই উল্টো সেই মোটর সাইকেল আরোহীকেই পিটিয়ে দাঁ//ত ভে/’/ঙ্গে দিয়েছেন ইরফান সেলিম ও তার লোকজন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, মোটর সাইকেল আরোহীর সাথে থাকা তার স্ত্রীকেও লা/ঞ্ছি/ত করেছেন তারা। কানাডায় পড়াশোনা করা একজন যুবকের কাছ থেকে এ আচরণ অপ্রত্যাশিত। কিন্তু যখন আপনি জানবেন যুবকের পিতা একজন এমপি, শ্বশুর এমপি, শাশুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান, তিনি নিজে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর; তখন নিমেষেই বিস্ময় কেটে যাবে।

জনপ্রতিনিধি হতে হলে জনগণের ভোট লাগে, সমর্থন লাগে। গণতন্ত্রে তাই জনপ্রতিনিধিরা সবসময় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। এমপি বা তার পরিবারের সদস্যরা জনগণের সাথে কেমন ব্যবহার করলেন, সেটা তারা মনে রাখেন। নির্বাচনের সময় ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন থাকে। কিন্তু অনেকদিন হলো বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধি হতে আর ভোট লাগে না। তাই জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়ও থাকে না। কেমন ব্যবহার করলেন না করলেন তাতে কিছু যায় আসে না। তারা যাই করুন আর না করুন শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, তাদের কোনো চিন্তা নেই; এই আত্মবিশ্বাস আওয়ামী লীগের এমপিদের ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাই জেলায় জেলায়, নির্বাচনী আসনে আসনে গড়ে উঠেছে স্থানীয় এমপির একচ্ছত্র সাম্রাজ্য।

সবার ক্ষেত্রে হয়তো অভিযোগটি সত্যি নয়, কিন্তু সাধারণভাবে সরকারি দলের এমপি, তার ছেলে, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা, চাচা, মামা, খালু; মানে এমপির সাথে কোনোভাবে লতায় পাতায় সম্পর্ক থাকলেই হলো; তার দাপটে টেকা মুশকিল। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র থাকলে এদের প্রত্যেকের আচরণের জন্য এমপিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। কিন্তু এখন এসব লাভ-ক্ষতির থোরাই কেয়ার। তাই এমপির চেয়ে এমপিপুত্রের দাপট বেশি। বরগুনার আলোচিত রিফাতের ঘটনায় নানা প্রসঙ্গে এসেছিল স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুমন দেবনাথের নাম। নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমানের চেয়ে তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান কম সমালোচিত নন। কুমিল্লার এক এমপির কোনো ছেলে নেই। এখন তার মেয়ের জামাইয়ের দা/প/টে অস্থির সবাই। সাধারণ মানুষ তো বটেই, দলের নেতাকর্মীরাও তার দাপট আর বেয়াদবিতে অতিষ্ঠ। তারা বলেন, আমরা এমপি সাহেবের ধ/ম/ক খেতে রাজি আছি, তাই বলে মেয়ের জামাইয়ের চোখ রা/ঙানিও সইতে হবে! বাতাসে শুনি, সেই মেয়ে জামাইয়ের সংগ্রহে নাকি আড়াইশ ’গান’ আছে। এই গান অবশ্য সঙ্গীত নয়, ব’/ন্দু’/ক। যার সংগ্রহে আড়াইশ গান আছে, তাকে ঘাটানো সহজ নয়। এলাকার সব ব্যবসা-বাণিজ্য, টেণ্ডার নাকি তার নিয়ন্ত্রণে। চট্টগ্রামের এক এমপির ছেলে দলের এক সিনিয়র নেতাকে ধমক দিয়েছেলেন, যার অডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এমন নিয়ন্ত্রক দেশে অনেক আছে। ভুল জায়গায় হাত দেয়ায় ইরফান বেচারা ফেঁ/সে গেছেন বটে। কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে এমন আরো অনেক ইরফান আছেন। ইরফান সেলিমের শ্যালক শাবাব চৌধুরীর ঘটনা নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যাননি। গা/ড়ি চা//পা দিয়ে একজন মানুষকে মে//রে ফেলেছিলেন শাবাব। পরে ২০ লাখ টাকায় রফা হয়েছিল। একটা মানুষের জীবনের দাম, আইনের দাম মাত্র ২০ লাখ টাকা! ইরফান হয়তো ভেবেছিলেন, মানুষ মে//রে যদি তার শ্যালক ২০ লাখ টাকায় রফা করতে পারেন, তিনি দাত ভা/ঙ/লে কী আর এমন হবে। তার বাবার কি টাকা কম আছে। কিন্তু ইরফান সেলিম শাবাবের উদাহরণটা মা/থায় রাখলেও ভুলে গিয়েছিলেন, সাবেক সাংসদ পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির কথা। তখন রনির মা এমপি ছিলেন। সেই দাপটে মায়ের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে মাতাল রনি মধ্যরাতে ইস্কাটন এলাকায় গু** করে মে/রে/ছি/লে/ন দুই নি/রপরাধ মানুষকে। রনি কিন্তু পার পাননি। যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগ করছেন। ইরফানকেও প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে।

এমপিরা যে নিজ নিজ এলাকায় আলাদা আলাদা সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ কুমিল্লা। সম্প্রতি কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী টাউন হল ভেঙ্গে সেখানে আধুনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন স্থানীয় সাংসদ হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। সংস্কৃতিকর্মীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ টাউন হল না ভে/ঙ্গে পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের ঘোষণা দেন। মজাটা হলো, টাউন হল ভা/ঙ্গা/র ব্যাপারে কুমিল্লার একজন মানুষও প্রতিবাদ করেননি। তাদের ভেতরে অনেক ক্ষো/ভ ছিল, প্রতিবাদের আকাঙ্খা ছিল; সেটা টের পেয়েছি ফোনে, মেসেঞ্জারে। কিন্তু কুমিল্লায় কারো টুঁ শব্দটি করার উপায় ছিল না, কখনো থাকবেও না।

আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনমুখী রাজনৈতিক দল। শুধু বাংলাদেশ নয়, এই উপমহাদেশেরই সবচেয়ে পুরোনো দলগুলোর একটি আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যু/দ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে দলটি। শুধু স্বাধীনতা যু/দ্ধ নয়, স্বাধীনতার আগে-পরে এাই ভূখণ্ডের সকল গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য আন্দোলনে সামনের কাতারেই ছিল দলটি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে শেষ করার পর আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার অনেকে চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা কর্মীবাহিনী আর জনগণের ভালোবাসা আওয়ামী লীগকে বাঁ/চি/য়ে রেখেছিল। ভিত শক্ত ছিল বলেই ঝড়ে পরে যায়নি আওয়ামী লীগ। তাই তো ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন। দুই দফায় ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু শেষ এবং যু/দ্ধা/প/রা/ধী/দে/র বিচার করে জাতিকে দায়মুক্ত করেছেন শেখ হাসিনা। টানা এক যুগ ক্ষমতায় থাকার সুবাদে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের এক অসাধারণ গতিপথে তুলে এনেছেন বাংলাদেশকে। সত্যি সত্যি বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের বিস্ময়।
গত ১২ বছরে শেখ হাসিনা দেশকে যতটা এগিয়েছেন, আওয়ামী লীগ যেন জনগণের কাছ থেকে ততটাই দূরে সরে গেছে। যে শক্ত ভিতের কথা বললাম, তাতেই যেন ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছে দলেরই নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় ফুরিয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন প্রয়োজন সাঁড়াশি অভিযান। এক্ষুণি দলের সব পর্যায়ের মন্ত্রী-এমপি, নেতাকর্মীদের কাছে কঠিন বার্তা দিতে হবে- তারা যেন জনগণের কাছে যান, জনগণ যেন তাদের ভালোবাসে, ভয় যেন না পায়

এত ক্ষমতার গরম একজনের পক্ষে ধারণ করা আসলে মুশকিল। তার তো রাস্তার দুই ইঞ্চি ওপর দিয়ে চলার কথা। তিনি যে দয়া করে আমাদের মত রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেন, মাঝে মধ্যে আমাদের চড়-থাপ্পর দেয়ার মত যোগ্য মনে করেন; তাই তো আমাদের ভাগ্য। তবে এবার ভুল জায়গায় হাত পরে গিয়েছিল ইরফান সেলিমের। তাই শেষ রক্ষা হয়নি।
আইএমএফ’এর রিপোর্ট অনুযায়ী এবছর মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে। করোনার কারণে এবার বাঘা বাঘা সব অর্থনীতি যখন কাবু, তখন মাত্র ২২টি দেশে জিডিপির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হবে; তারমধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। কিন্তু শেখ হাসিনার অনেক কষ্টের একেকটা অর্জন মাটি হয়ে যায়, কখনো ছাত্রলীগের অপকর্মে, কখনো এমপিপুত্রদের আস্ফালনে। গত ১২ বছরে শেখ হাসিনা দেশকে যতটা এগিয়েছেন, আওয়ামী লীগ যেন জনগণের কাছ থেকে ততটাই দূরে সরে গেছে। যে শক্ত ভিতের কথা বললাম, তাতেই যেন ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছে দলেরই নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় ফুরিয়ে গেছে অনেক আগেই। এখন প্রয়োজন সাঁড়াশি অভিযান। এক্ষুণি দলের সব পর্যায়ের মন্ত্রী-এমপি, নেতাকর্মীদের কাছে কঠিন বার্তা দিতে হবে- তারা যেন জনগণের কাছে যান, জনগণ যেন তাদের ভালোবাসে, ভ/য় যেন না পায়।



এদিকে, দেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল অনেক উন্নয়নমূল কাজ করছে তবে এরপরও কিছু রাজনৈতিক নেতার কারণে নানা রকম সামালোচনা দেখা দিচ্ছে। এমনকি অনেক সময় ক্ষমতাসীন দলের সাথে যুক্ত হয়ে কিছু মানুষ নানা রকম অনিয়ম ও কক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আর তাদের ক্ষমতার জোরের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহসটুকু পায় না। কিন্তু যখনই বড় রকমের ঘটনা ঘটছে তখনি নানা রকম অভিযোগ উঠে আসছে এর ফলে ওই রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পর্কে দেশজুড়ে সমালোচনা দেখা দেয়। কিন্তু এর আগেও এমন ঘটনা ঘটিয়ে পাড় পেয়ে যায় অনেকে যা অনেক সময় প্রকাশ্যে আসে না।