মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনা চলছে। বর্তমানে বিশ্ববাসী অপেক্ষায় রয়েছে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল দেখার জন্য। তবে এই নির্বাচন শুরুর আগে দেশে দেশে অনেক মানুষ সংবাদের দিকে নজর দেয়। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রায় সময় অনেক গণমাধ্যম দেশটির বিভিন্ন বিষয়ে জরিপ করেছে। আর এই জরিপে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। এদিকে, বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আসিফ নজরুল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে একটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। আর এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বর সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাচ্ছে। আর এবার দেশের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের জো বাইডেন কে নিয়ে সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল:


মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হবেন জো বাইডেন। নির্বাচনের আগের দিনই অর্থাৎ ২ নভেম্বর এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। ফলাফলও তাই বলছে অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার একেবারেই দ্বারপ্রান্তে জো বাইডেন। তবে তিনি এ ভবিষ্যদ্বাণী বিবিসির একটি জরিপের উপর নির্ভর করে লিখেছেন।

আসিফ নজরুলের ভবিষ্যৎবাণী মিলে যাওয়ায় অনেকেই তার লেখা ও যুক্তির প্রশংসা করছেন।

"জিতবেন জো বাইডেন" এরকম শিরোনামে ভবিষ্যদ্বাণী করে আসিফ নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় গণমাধ্যমে একটি কলাম লিখেন।

কলামের শেষ অংশে তিনি লিখেছেন, "এত বড় গলায় এটি বললাম অনেকটা বিবিসির ওপর নির্ভর করে। এটা না হলে বিবিসির দোষ। হলে কিছুটা আমারও কৃতিত্ব! কারণ, ভবিষ্যদ্বাণীটা আমার। অতিমারি, অভাবিত মন্দা, জাতিগত বিভেদের এমন অভূতপূর্ণ পরিবেশের নির্বাচনে কয়জনের সাহস আছে, এমন ভবিষ্যদ্বাণী করার!"

এদিকে শুক্রবার রাত সোয়া এগারোটায় আসিফ নজরুল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তোমরা ভোট গুনতে থাকো। আমি রেজাল্ট জানিয়ে দিলাম। বাইডেন ৩০৬ : ট্রাম্প ২৩২, এরমধ্যে মামলা করে কিছুটা ঝামেলা করা যাবে একমাত্র ফিলাডেলফিয়া-য়। সেটা এমনকি বাদ দিলেও বাইডেন প্রেসিডেন্ট। নিশ্চিত।

মার্কিন অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

জাতীয় গণমাধ্যমে অধ্যাপক আসিফ নজরুলের লেখাটি পাঠকদের জন্য হুবহু প্রকাশ করা হলো


কে জিতবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে? ফেসবুকে বন্ধুদের মন্তব্য ট্রাম্প। বিদেশের গণমাধ্যমে বিশ্লেষকদের বক্তব্য, বাইডেনের সম্ভাবনা বেশি, তবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কিছু। সবার মনে গেঁথে আছে ২০১৬ সালে ট্রাম্পের অবিশ্বাস্য বিজয়ের কথা। পেনসিলভানিয়া, মিশিগান আর উইসকনসিন—১৯৭২ সালে থেকে ডেমোক্র্যাটদের নিশ্চিত দুর্গগুলোতে ট্রাম্পের বিজয় ছিনিয়ে আনার কথা।

আমার মনে পড়ে ২০১৬ সালে নির্বাচনের আগে দেশ–বিদেশের প্রায় সব বিশ্লেষকের লেখায় পড়েছি হিলারি জিতবেন। তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলাম আমি। ৪ নভেম্বরে হতবাক করা একের পর এক ফলাফল আসার পর ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে প্রথম আলোয় লিখলাম ’চক্ষু চড়কগাছ’!

এবার বলতে পারি, এবার চক্ষু চড়কগাছ হতে পারে অন্যভাবে। সেটি হচ্ছে, ট্রাম্পের বিশাল পরাজয়ে। অন্তত স্পস্ট ব্যবধানে পরাজয়ে।


আমার এ আত্মবিশ্বাসের কারণ বিবিসি। বিবিসিতে ’প্রেডিক্ট ইয়োর প্রেসিডেন্ট’ নামে একটা গেম আছে। সেখানে বিবিসি নানা বিবেচনায় ব্যাটল গ্রাউন্ড স্টেট হিসেবে সাতটি রাজ্য বাছাই করেছে, যেখানকার ফলাফল নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হারজিত।
প্রথমে বলে নিই আমার এ আত্মবিশ্বাসের কারণ বিবিসি। বিবিসিতে ’প্রেডিক্ট ইয়োর প্রেসিডেন্ট’ নামে একটা গেম আছে। সেখানে বিবিসি নানা বিবেচনায় ব্যাটল গ্রাউন্ড স্টেট হিসেবে সাতটি রাজ্য বাছাই করেছে, যেখানকার ফলাফল নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হারজিত।

বিবিসির প্রেডিকশনের খেলাটা শুরু হয় বাইডেন ২৩৩ ও ট্রাম্প ১৮৮টি ইলেকটোরাল ভোট পাবেন, তা নিশ্চিতভাবে ধরে নিয়ে। এটি ধরে নেওয়ার কারণ কলাম্বিয়া ডিস্ট্রিক্ট এবং ১৮টি নীল দেয়াল বা ব্লু ওয়াল স্টেট, যেখানে মোট ইলেকটোরাল ভোট হচ্ছে ২৪২। ১৯৯২ থেকে ২০১৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত এর প্রতিটি স্টেটে জিতেছেন ডেমোক্র্যাটরা, যেমন বিগ থ্রি স্টেট ক্যালিফোর্নিয়া (ইলেকটোরাল ভোট ৫৫), নিউইয়র্ক (২৯) আর ইলিনয়েস (২০)। এর পাশাপাশি রেড ওয়াল হচ্ছে সেসব রাজ্য, যেখানে ২০০৮ সালে ওবামার বিজয় বাদে রিপাবলিকানরা একচেটিয়াভাবে জিতে আসছেন কয়েক দশক ধরে। যেমন আইওয়া, ওহাইও, টেক্সাস। এসব রাজ্যে এবারও ট্রাম্প এগিয়ে জরিপে।

নীল দেয়ালের ইলেকটোরাল ভোট লাল দেয়ালের চেয়ে বেশি। ফলে বিবিসির হিসাবে বাইডেন নিশ্চিত এগিয়ে ২৩৩টি আসনে, অন্যদিকে ট্রাম্প ১৮৮টিতে।

এবার আসি প্রেডিকশন গেমে। এখানে বিবিসির বাছাই করা ৭টি ব্যাটল গ্রাউন্ড রাজ্যের মধ্যে উইসকনসিন ও মিশিগানে বাইডেনের বিজয় নিশ্চিত বলে আমার ধারণা। উইসকনসিনে (১০) দুই বছর আগে ডেমোক্র্যাটদের গভর্নর পদে বিরাট বিজয়ের পর থেকে এ সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। ট্রেড ওয়ারে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসার মধ্যে একটি হচ্ছে, এর ডেইরি ফার্মগুলো। এ ছাড়া ব্ল্যাক রাইটস মুভমেন্টের জোয়ারও এখানে বাইডেনের পক্ষে যাবে। এখানে বাইডেন জরিপে এগিয়ে বিরাট ব্যবধানে। একই অবস্থা ২৮ বছর ধরে ডেমোক্র্যাটদের রাজ্য মিশিগানে। ২০১৬ সালে এখানে ট্রাম্পের বিজয় ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৩ ব্যবধানে। কিন্তু বাইডেন এখানে ব্যক্তিগতভাবে জনপ্রিয়, এখানকার অতি জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট গভর্নরের সঙ্গে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক।

এই স্টেট দুটির ২৬টি ভোট যোগ হলে বাইডেনের ভোট হয় ২৫৯। বাকি রাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভানিয়াতে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। ল্যাটিনো পরিবারদের তাদের শিশুদের চেয়ে আলাদা করা, কালোদের ওপর পুলিশি নির্যাতন, বেকারত্ব ও করোনার অসমানুপাতিক প্রভাব এখানে ট্রাম্পের বিপক্ষে যাবে। এখানকার একটি অঞ্চলে জন্ম নেওয়া বাইডেনের রয়েছে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা। এখানকার ২০টি ভোট পেলে তাঁর মোট ভোট দাঁড়ায় ২৭৯। প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেয়েও ৯ বেশি।

এ ছাড়া ফ্লোরিডাতেও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা আছে। ফ্লোরিডা ট্রাম্পের অ্যাডাপটেড সেকেন্ড হোম। কিন্তু এখানে অন্য রাজ্য থেকে আসা পেনশনাররা আর তরুণ ভোটাররা বাইডেনের পক্ষে বেশি, এখানে তাঁর পক্ষে অতি জনপ্রিয় ওবামা নিজে কাজ করছেন। করোনা আর বেকারত্বের প্রভাব পেনসিলভানিয়ার মতো এখানেও আছে। ফ্লোরিডার ২৯টি ভোট পেলে বাইডেনের বিশাল বিজয় নিশ্চিত হয় ৩০৮ ভোটে!

বিবিসির বাছাই করা রাজ্যগুলোর মধ্যে বাকি তিনটিতে ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যারিজোনা (১১), উত্তর ক্যারোলাইনা (১৫) আর জর্জিয়াতে (১৬) তিনি জিতলেও তাঁর মোট ভোট হবে মাত্র ২৩০ (১৮৮+৪২)।

অর্থাৎ জিতবেন বাইডেন। এত বড় গলায় এটি বললাম অনেকটা বিবিসির ওপর নির্ভর করে। এটা না হলে বিবিসির দোষ। হলে কিছুটা আমারও কৃতিত্ব! কারণ, ভবিষ্যদ্বাণীটা আমার। অতিমারি, অভাবিত মন্দা, জাতিগত বিভেদের এমন অভূতপূর্ণ পরিবেশের নির্বাচনে কয়জনের সাহস আছে, এমন ভবিষ্যদ্বাণী করার!

আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক।


এদিকে, এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানতে আরও সময় লাগবে কারণে হিসেবে বলা হচ্ছে এখনো অনেক স্থানে ভোট চলছে। তবে ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে যে জো বাইডেন অনেটা এগিয়ে রয়েছেন। এই নির্বাচনকে নিয়ে প্রথম থেকেই দেশটির ভোটারদের অনেক আগ্রহী লক্ষ করা গেছে। আর অনেকে বলছেন দেশটির ইতিহাসে এবারের নির্বাচনে সব থেকে বেশি মানুষ ভোট দিচ্ছেন। এমনকি করোনা ভাইরাসের মধ্যে এতো মানুষ ভোট দিবেন তা প্রথমে কেউ ভাবতে পারেননি।