বাবা-মা সব সময় তাদের সন্তানের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান। এ জন্য সন্তানের জন্য প্রতিনিয়ত কষ্ট করে যান বাবা-মা। তবে একটা সময় সেই সন্তানের কাছেই বড় রকমের কষ্ট পায় বাবা-মা। এমনকি ছেলে-মেয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেও অনেক সময় বাবা-মার খোঁজ নেন না। আর এবার তেমনি একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন রিয়াজুল হক। পাটকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল:

আমার এক শিক্ষক চাকরি থেকে অবসরে গেছেন ২০০২ সালে। এখন স্যারের বয়স ৭৭/৭৮ কিংবা কিছু বেশিও হতে পারে। ম্যাডামের (স্যারের স্ত্রী) বয়স ৭০/৭২ হবে। উনাদের দুই ছেলে-মেয়ে।

আমার জানামতে, দু’জনই দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তারা পিএইচডি করতে প্রায় পনের বছর আগে উন্নত দেশের দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। কেউ আর দেশে ফিরে আসেননি। দু’জন দুই দেশে মোটামুটি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

বাবা-মা’কে নিয়েও যাননি। তবে তিন/চার বছর পর পর তারা বাবা-মা’কে দেখতে দেশে আসেন। এখন সন্তান হিসেবে এই দায়িত্ব তারা পালন করে চলেছেন।

স্যারের টাকা-পয়সার অভাব নেই। কিন্তু দেখাশুনা করার কেউ নেই। বৃদ্ধদের কোন আত্মীয়-স্বজনও থাকে না।
স্যারের সাথে কিছুদিন আগে দেখা হয়েছিল। জানলাম, একজন কাজের মহিলা উনাদের দেখাশুনা করেন, রান্না করে দেন। যদি কোন দিন কাজের মহিলা না আসে, সেদিন স্যার ম্যাডামের খাওয়া-দাওয়া অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়।

অনেক কথা বলার পর এক সময় স্যার বলেই ফেললেন, সন্তানদের বেশি বড় মানুষ করতে নেই। তারা তখন বাবা-মায়ের থাকে না। বুঝতে পারলাম, কতটা কষ্ট বুকের মধ্যে নিয়ে স্যার চলাচল করছেন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: রিয়াজুল হক
যুগ্ম-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

উল্লেখ্য, অনেক বাবা-মা কষ্ট করে তাদের সন্তাদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন। কিন্তু একটা সময় সেই সন্তানরা বাবা-মার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যান। এমনকি অনেক সন্তান বাবা-মার খোঁজ রাখেন না। আর এই সময় বাবা-মা অনেক অসহায় হয়ে দিন যাপন করে থাকে।