আরব দেশে যেসব প্রবাসীরা অনেকদিন ধরে আছেন তারা অবশ্যই সেসব দেশের খাবারের সম্পর্কে অনেক রকমের আইডিয়া রাখেন। এবার নিয়ে এলাম সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাবার কাবসা! শুধুমাত্র বাঙ্গালি ভাইদের জন্য রেসিপিটি দেয়া হলো। নিচে সম্পূর্ন রান্নার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে রান্নার শেষ পর্যন্ত ভিডিও করে দেয়া হলো। অবশ্যই কোন ছুটির দিনে নিজেরা করে খাবেন। সাথে আরও কিছু খাবারের বর্ননা থাকছে।

খেপসা বা খেবসা: খুব জনপ্রিয় খাবার। কারও বাসায় দাওয়াত থাকলে খেবসা থাকবেই। মূলত ইয়েমেনি খাবার। তবে আরব দেশগুলোতে সবাই এটা পছন্দ করে। খেবসা হচ্ছে বাসমতি চাল ও বিশেষভাবে তৈরি মাংসের মিশ্রণ। মুরগি, গরু বা ভেড়ার মাংস, এমনকি মাছ দিয়েও খেবসা তৈরি করা হয়। হালকা মসলায় কম তেলে রান্না করা বিরিয়ানির মতো। আমাদের সঙ্গী এক ভদ্রলোক জানালেন, খেপসার সঙ্গে মুরগি থাকলে বলা হয় খেপসা দুজাজ আর ভেড়া/দুম্বা থাকলে খেপসা লাহাম।

সৌদি আরবে প্রায় সব দেশের খাবারই পাওয়া যায়। ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, ডাল প্রভৃতি দেশি খাবার খেয়েছি। সৌদি খাবারও সস্তাই মনে হয়েছে। কয়েকটি খাবারের কথা বলছি:

খবুজ: একধরনের রুটি। দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের তন্দুর রুটির মতোই। মাত্র এক রিয়ালে (এক রিয়ালে প্রায় ২১ টাকা) ছয়টি খবুজ পাওয়া যায়। ডাল অথবা মুরগির মাংসের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।

তামিয়া: এটি মিক্সড স্যান্ডউইচের মতো। অর্ধেক খবুজের ভেতর ডিমের ফালি, শসা, টমেটো, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, পেঁয়াজু, সস ও মেয়োনেজ দিয়ে পরিবেশন করা হয়। তামিয়ার মধ্যে রকমফের আছে। যেমন: ডিম তামিয়া, তামিয়া মোশাক্কেল। দুই রিয়ালের তামিয়া মোশাক্কেল সকাল-বিকেলের নাশতা হিসেবে ভালো। হজ মিশনের কাছে মিসফালাহ কেদুয়া গ্রিন পার্কের কাছে একটি ছোট দোকান চালান কেরালার কবির। আমাকে দেখলে বেশ খাতির করেন। ১০ বছর ধরে তাঁর দোকানে তামিয়া খাই।

আল-ফাহাম: বড় থালায় বিশেষ ধরনের রান্না করা লাল-ভাতের মাঝখানে কয়লায় পোড়ানো মুরগি। সৌদিরা বিশাল থালার চারপাশ ঘিরে মজা করে পাঁচ-ছয়টি আল-ফাহাম খায়।

তমিজ: মিসফালাহ গ্রিন পার্কের কাছে একটি দোকানে আফগানিস্তানের লোকজনের চালানো একটি দোকান। এখানে পাবেন ’ফুল’ তমিজ। একধরনের রুটি। আমাদের দেশের কয়েকটা তন্দুর রুটির সমান। একটার দাম তিন রিয়াল। সঙ্গে একবাটি ঘন মসুর ডাল আর একবাটি ’ফুল’ মাত্র দুই রিয়ালে। এই ফুল হচ্ছে একধরনের সিমের বিচি (বিন) পিষে বানানো তরকারি। তমিজ খেতে হয় গরম গরম। আরও আছে তমিজ বিস্কুট, গেলাবা। দুজন মিলেও একটা তমিজ শেষ করা যায় না।