বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা কে নিয়ে গত বছর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই রাজনৈতিক নেতা তার নিজ এলাকার রজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও নানা রকম প্রশ্ন তোলেন। আর এই সকল কারণে তাকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলেও বেশ আলোচনা শুরু হয়। তবে এবার এই রাজনৈতিক নেতা জানালেন তাকে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন।

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, এই দেখেন; নেত্রী মেসেজ দিয়েছেন। বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি দেখা করতে যাব।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে পৌরসভার রূপালী চত্বরের শোকসভা ও সমাবেশে মোবাইলের মেসেজ বের করে নেতাকর্মীদের দেখিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, নেত্রী আমার রাজনীতির শেষ ঠিকানা। তিনি যা বলবেন আমি তাই মানব। দেখা করার পর তিনি যে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী কাজ করব।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রূপালী চত্বরে সমাবেশ শুরু হয় বলে ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ব্যক্তিগত সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম।

একই সময়ে টেকের বাজারে সমাবেশ করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বাদল। এ অবস্থায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল স্থানীয়রা।

সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌরসভায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হক মীর।

এরই মধ্যে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বসুরহাটের রূপালী চত্বরে সংবাদ সম্মেলনের চেষ্টা করেন মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। তবে প্রশাসনের বাধায় শেষ পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলন করতে পারেননি। পরে কয়েক মিনিট রূপালী চত্বরে সমাবেশ মঞ্চে বসে থাকেন তিনি।

এর আগে বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলন ডাকেন কাদের মির্জা। নির্ধারিত সময়ে কাদের মির্জা সেখানে হাজির হন। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রভাত চাকমা ও জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসা।

১৪৪ ধারা বলবৎ থাকায় রূপালী চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না বলে কাদের মির্জাকে জানিয়ে দেন তারা। এ সময় কাদের মির্জা তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সূত্র: বিডিমর্নিং
উল্লেখ্য, এই রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন এমপিও মন্তব্য করেন। আর এই সকল কারণে তিনি তার নিজ এলাকায় হ’র’তা’লে’র ডাক দেন। এই রাজনৈতিক নেতা বলেছেন তিনি যতো দিন বেঁচে থাকবেন ততো দিন সত্য কথা বলবেন। আর তার দেওয়া বক্তব্য নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে।