সম্প্রতি গত কয়েকদিন ধরে বেশ অসুস্থতার মধ্য দিয়ে দিন পার করছিলেন এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী কিংবদন্তি বক্সার মোশাররফ হোসেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বেশকিছু টাকা, কিন্তু দেশজুড়ে চলমান এ সংকটময় পরিস্থিতিতে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অনেকটা অসাধ্য হয়ে পড়েছিল তার পক্ষে। আর ঠিক সেই মুহুর্তে তার এ অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরপরই তার দিকে সাহাস্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। বক্সার মোশাররফ হোসেনের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পেরে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারি এলাকায় তার বাসায় ছুটে যান সিটি মেয়র।

এসময় বক্সার মোশাররফ হোসেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন তিনি এবং তাকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। মোশাররফ হোসেনের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতি মাসে তাকে ভাতা প্রদানের আশ্বাস দেন রাসিক মেয়র।

রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় মহানগরীর তালাইমারি এলাকায় বক্সার মোশাররফ হোসেনের বাড়িতে যান রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এসময় মেয়রকে দেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন ভাই ছাড়া আমার খোঁজখবর কেউ নেয়নি। মেয়র খোঁজ নিতে আমার বাড়িতে এসেছেন, এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এর আগেও তিনি শহীদ কামারুজ্জামান ও জাহানারা জামান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দুইবার সহযোগিতা দিয়েছেন। মেয়র আমার পাশে আছেন এতেই আমি অনেক আনন্দিত।

রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, কিংবদন্তি বক্সার মোশাররফ হোসেন শুধু রাজশাহী নয়, পুরো বাংলাদেশের গর্ব। তিনি এশিয়ান গেমস্ পদক জিতেছেন, ১০ বার জাতীয় পর্যায়ে চাম্পিয়ন হয়েছেন। তিনি তার ক্রীড়া নৈপুণ্য বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিনি এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ।

মেয়র আরও বলেন, মোশাররফ হোসেনের বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স বিধি অনুযায়ী মওকুফ করা হবে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো। এছাড়া আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতি মাসে ভাতা প্রদান করা হবে। দেশের অন্যতম এই সেরা ক্রীড়াবিদের প্রয়োজনে সব সময় পাশে আছি, আগামীতেও থাকবো।


১৯৮৬ সালে এশিয়ান গেমস্ বক্সিংয়ে ৮১ কেজি হেভিওয়েটে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র ব্রোঞ্জ পদক জিতেন মোশাররফ হোসেন। ১৯৮১ সাল থেকে টানা ১০ বছর ছিলেন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। তবে গত কয়েকদিন নিজ বাসাতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলার অন্যতম গুণী এই খেলোয়ার। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধিতে তার অবদান কখনো ভোলার নয়। এদিকে মোশাররফ হোসেনের দ্রুত সুস্থতা কামনা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।