রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপির মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী সভাপতি ও সাবেক মেয়র লিটন এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র বুলবুল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
লিটন বলেন, বুধবার সকালে ঢাকায় দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে তার পক্ষে মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।
লিটন জানান, তিনি ঢাকায় থাকলেও মনোনয়নপত্র তোলার সময় উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিকালে তিনি নিজে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
অন্যদিকে মেয়র বুলবুল জানান, সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
বুলবুল জানান, তিনি রাজশাহীতেই আছেন। বুধবার তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।
রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, দলীয় মনোনয়নপত্র দলের কাছে জমা দেওয়ার পর দল তাদের প্রার্থী নিশ্চিত করে একটি সনদ দেবে। এতে নির্বাচনের জন্য ওই প্রার্থীর দলীয় প্রতীক বরাদ্দ হবে। এরপর প্রার্থীকে আবার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। সেটি জমা দেওয়ার সময় দল থেকে পাওয়া সনদ সংযুক্ত করতে হবে। এরপর তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
সিটি নির্বাচনে শুধু মেয়র পদেই দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে। সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের বিভিন্ন দল সমর্থন দিতে পারবে, তবে তারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। ফলে তারা দলীয় প্রতীকও পাবেন না। রাসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনে অংশ নিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৩৪ জন কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
গত ১৪ জুন থেকে ছুটির দিনসহ প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। ২৮ জুন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। আগামী ১ ও ২ জুলাই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জুলাই। আর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে ৩০ জুলাই।
রাজশাহীতে মেয়র পদে প্রথম ভোট হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। সেবার জিতেছিলেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। ২০০২ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনেও জয় পান তিনি। ২০০৮ সালে মিনু কারাগারে থাকায় ভোটে দাঁড়াননি। বিএনপি প্রার্থী করে সে সময়ের যুবদল নেতা বুলবুলকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের ওই নির্বাচনে জিতেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটন। তবে ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বুলবুলের কাছেই পরাজিত হন।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন খায়রুজ্জামান লিটন। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বাকি। অপরদিকে বুলবুলের মনোনয়নও অনেকটা নিশ্চিত। এ হিসেবে আগামী নির্বাচনে নৌকা ও ধানের শীর্ষ নিয়ে লড়বেন পুরোনো দুই নেতা।
এবার রাজশাহী সিটিতে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩০টি। এছাড়া ১০টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি।dhakatimes24